নভেম্বর থেকে ইউটিউবে একটি গেমের তাক আছে, নাম প্লেঅ্যাবলস, যা কেবল মুঠোভর্তি দেশের অর্থ দেওয়া প্রিমিয়াম গ্রাহকেরা দেখতে পেতেন। এ সপ্তাহে তাকটি সবার জন্য খুলল। ওয়েবসাইটে বা অ্যান্ড্রয়েড-আইওএস অ্যাপে লগইন করুন, হোমপেজে বা এক্সপ্লোর মেনুতে প্লেঅ্যাবলস খুঁজুন, একটি গেমে ট্যাপ করুন আর তা শুরু—কিছু ডাউনলোড নেই, ইনস্টল নেই, স্টোর অ্যাকাউন্ট নেই।
তাকে যা আছে
চালুর সময়ের তালিকা ছিল প্রায় ৩০টি আর্কেড ঘরানার গেম; এখন ৭৫-এর বেশি, যার মধ্যে অ্যাংরি বার্ডস শোডাউন, ট্রিভিয়া ক্র্যাক, কাট দ্য রোপ, সলিটেয়ার ও দাবার রকমফের আর একগুচ্ছ ক্যাজুয়াল পাজল। এগুলো ইউটিউবের প্লেয়ার ফ্রেমের ভেতরে ওয়েব গেম হিসেবে চলে, অগ্রগতি সেভ হয় গুগল অ্যাকাউন্টে, আর ইউটিউব বলছে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি দেশে পৌঁছাবে। কোনো খরচ নেই আর, আপাতত, গেমের ভেতরে কেনাকাটাও নেই।
ভিডিও সাইট কেন আপনাকে খেলাতে চায়
দেখার সময়ের হিসাবে গেমিং ইতিমধ্যে ইউটিউবের সবচেয়ে বড় ঘরানা—লেটস-প্লে, ওয়াকথ্রু ও স্ট্রিম সাইটের বিজ্ঞাপনের বড় অংশ আনে। দর্শককে সদ্য দেখা জিনিসটি খেলতে দিলে অ্যাপ স্টোরে পাঠানোর বদলে তাঁরা অ্যাপের ভেতরে থাকেন, আর অ্যাপের ভেতরের প্রতিটি মিনিট ইউটিউব মাপতে আর, শেষমেশ, বেচতে পারে। আরও লম্বা দ্বিতীয় একটি খেলা আছে: অ্যাপল ও গুগল অ্যাপ-স্টোরের কেনাকাটার ৩০ শতাংশ নেয়। ইউটিউবের ভেতরে চলা ওয়েব গেম স্টোরকে পুরোপুরি পাশ কাটায়, যে কারণে নেটফ্লিক্স, মেটা আর এখন ইউটিউব সবাই এমন গেম লাইব্রেরি গড়ছে, যা অ্যাপ স্টোর ছোঁয় না।
বাংলাদেশি ফোনে
প্লেঅ্যাবলস ঠিক সেই ফোনগুলোর উপযোগী, যা এখানকার বেশির ভাগ মানুষ ব্যবহার করেন। স্টোরেজের দাগ ভরা ৪ গিগাবাইটের অ্যান্ড্রয়েডে আরও একটি ৩০০ মেগাবাইটের গেম ধরে না, কিন্তু ১০ মেগাবাইটের ওয়েব গেম স্ট্রিম করতে পারে। ডেটা খরচ সামান্য—বেশির ভাগ গেম একবার লোড হয়ে স্থানীয়ভাবে চলে—আর অভিভাবকের বিকাশ দিয়ে শিশুর করার মতো বয়সসীমার কেনাকাটা নেই। বিনিময়টি মান: এগুলো ক্যাজুয়াল গেম, ফ্রি ফায়ার বা পাবজি নয়, আর শুরু করতে সচল সংযোগ লাগে। বাসে দশ মিনিটের বিরতির জন্য যথেষ্ট।
যেভাবে খুঁজে পাবেন
ইউটিউব অ্যাপ হালনাগাদ করুন, হোমপেজে নিচে স্ক্রল করে ‘প্লেঅ্যাবলস’ সারিটি দেখুন বা এক্সপ্লোর মেনুতে যান। সারি দেখা না গেলে আপনার দেশে এখনো পৌঁছায়নি; ইউটিউব বলছে সব দেশে চালু হবে পর্যায়ক্রমে, তাই কয়েক সপ্তাহ পর আবার দেখুন। ওয়েবে youtube.com/playables ঠিকানায় সরাসরি যাওয়া যায়।
ইনস্ট্যান্ট গেম বারবার কেন ফিরে আসে
আপনি অন্য কিছুর জন্য খোলা অ্যাপের ভেতরে গেম বসানোর এটি অন্তত চতুর্থ বড় চেষ্টা: ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট গেমস, গুগল প্লে ইনস্ট্যান্ট, স্ন্যাপ গেমস, নেটফ্লিক্সের মোবাইল গেম। বেশির ভাগই নীরবে তুলে নেওয়া হয়েছে, আর কারণগুলো প্রতিবারই এক।
খুঁজে পাওয়া। কেউ গেম খেলতে ইউটিউব খোলেন না, তাই গেমগুলোকে সামনে আনতে হয় এমন একটি প্ল্যাটফর্মকে, যার ভিডিও সামনে এনে আয় বেশি। তাকটি প্রতিযোগিতা করে সেই জিনিসটির সঙ্গেই, যার সঙ্গে সে জোড়া।
টাকা। মোবাইল গেম যা বিক্রি করে—স্থায়ী অ্যাকাউন্টের সঙ্গে জোড়া অ্যাপের ভেতরের কেনাকাটা—ইনস্ট্যান্ট গেম তা সহজে বিক্রি করতে পারে না, তাই আয় করে বিজ্ঞাপনে; আর ব্যবহারকারী জোগাড়ের খরচ অত্যন্ত বেশি এমন ব্যবসায় এটিই সবচেয়ে দুর্বল প্রান্ত।
গভীরতা। ইনস্টল ছাড়া তিন সেকেন্ডে চালু হওয়া গেম মানে কয়েক মেগাবাইটে ধরে যাওয়া গেম, আর হালকা পাজলের দর্শককে আগেই সেবা দিচ্ছে শতখানেক বিনা মূল্যের অ্যাপ।
বাংলাদেশি সংযোগে
দুটি ব্যবহারিক কথা। এগুলো স্ট্রিম বা ওয়েবে লোড হয়, তাই শুরু করতে সচল সংযোগ লাগে আর কিছু গেম খেলার সময়ও ডেটা খরচ করে—ইনস্টল করা অফলাইন গেমের মতো দশ মিনিটের একটি পর্ব বিনা মূল্যের নয়। আর এগুলো চলে অ্যাপের নিজের ভিউয়ে, যার মানে বেশির ভাগ গেমে গুগল প্লে গেমস অ্যাকাউন্টে অগ্রগতি জমা হয় না: ইউটিউব বন্ধ করলে আগামীকাল সর্বোচ্চ স্কোরটি না-ও থাকতে পারে।
বাসের যাত্রার জন্য এতে অসুবিধা নেই—আর সুবিধাটি আসলে সেই কাজেই।
সূত্র: গ্যাজেটস ৩৬০, প্রথম আলোর বরাতে।




