প্রযুক্তি

ছবি ফিরে আসার জন্য একটি নষ্ট ডেটাবেজ এন্ট্রিকে দায়ী করল অ্যাপল। এতে ত্রুটিটির ব্যাখ্যা মেলে—মুছে বিক্রি করা আইপ্যাডটির মেলে না

অ্যাপল বলছে, আইওএস ১৭.৫-এর একটি মাইগ্রেশন রুটিন ফাইল সিস্টেম ঘেঁটে পাওয়া ছবি আবার যোগ করেছিল। কারণ নিয়ে প্রতিবেদনগুলো একমত; মুছে বিক্রি করা যন্ত্র নিয়ে নয়।

ছবি ফিরে আসার জন্য একটি নষ্ট ডেটাবেজ এন্ট্রিকে দায়ী করল অ্যাপল। এতে ত্রুটিটির ব্যাখ্যা মেলে—মুছে বিক্রি করা আইপ্যাডটির মেলে না

২০২৪ সালের ১৩ মে অ্যাপল ছাড়ে আইওএস ১৭.৫, একটি সাধারণ আপডেট। কয়েক দিনের মধ্যেই রেডিট ও এক্সে ব্যবহারকারীরা জানাতে থাকেন, তাঁদের লাইব্রেরিতে এমন ছবি দেখা যাচ্ছে যেগুলো তাঁরা বছর কয়েক আগে মুছে ফেলেছিলেন—অনেকের ক্ষেত্রে ২০২১ সালে, একজনের ক্ষেত্রে ২০১০ সালে। ২০ মে আইওএস ১৭.৫.১ দিয়ে অ্যাপল এটি ঠিক করে, আর দিন কয়েক পর ব্যাখ্যা দেয় কী ভুল হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানের বিবৃতির পাশে ব্যবহারকারীদের বর্ণনা রেখে দেখা দরকার, কারণ দুটি ঠিক একই জায়গা ছুঁয়ে যায় না।

অ্যাপল যা বলেছে

৯টু৫ম্যাককে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যাপল কারণ হিসেবে বলেছে যন্ত্রের ফাইল সিস্টেমে থাকা একটি নষ্ট ডেটাবেজ এন্ট্রি। আইওএস ১৭.৫.১-এর রিলিজ নোটেও একই কথা। সঙ্গে আরও দুটি বিষয়:

  1. আইওএস ১৭.৫-এ ছিল একটি মাইগ্রেশন রুটিন, যা ফাইল সিস্টেম ঘেঁটে দেখত। যেখানে ছবির ফাইল মিলত, সেটি ফটো লাইব্রেরিতে যোগ করে দিত—এমন ফাইলসহ, যেগুলো মুছে ফেলা হয়েছিল এমন কোনো নথি আর টিকে ছিল না।
  2. ক্ষতিগ্রস্ত ফাইলগুলো ছিল যন্ত্রের ভেতরে, আইক্লাউডে নয়। অ্যাপল স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের সার্ভার থেকে কিছুই ফেরানো হয়নি; আর বারবার বলেছে সমস্যাটি বিরল—অল্প কিছু ব্যবহারকারী আর অল্প কিছু ছবিতে।

মুছে ফেলা ছবি কেন ডিস্কে থেকে যেতে পারে

বেশির ভাগ প্রতিবেদন এ অংশটি এড়িয়ে গেছে, আর এ কারণেই ত্রুটিটি আদৌ সম্ভব হয়েছিল।

প্রায় যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমেই ফাইল মুছলে বাইটগুলো মুছে যায় না। মুছে যায় সেগুলোর দিকে দেখানো এন্ট্রিটি, আর জায়গাটিকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়। ফটো অ্যাপ প্রতিটি ছবির বর্ণনা আর ফাইলটি কোথায় আছে, তা নিয়ে একটি ডেটাবেজ রাখে; "ডিলিট" মানে সারিটি সরানো, আর ফাইলটি মোছা হয় আলাদাভাবে। ওই দ্বিতীয় ধাপটি শেষ না হলে—থেমে যাওয়া সিংক, ফাইল ফিরিয়ে আনা কোনো রিস্টোর, শেয়ার করা অ্যালবামে টিকে থাকা ক্লাউড কপি—ফাইলটি স্টোরেজ চিপে অনাথ হয়ে থেকে যায়, তালিকায় কোথাও না থেকেও।

ডেটাবেজ না পড়ে সরাসরি ফাইল সিস্টেম ঘাঁটে এমন রুটিন ওই অনাথ ফাইলগুলো পেয়ে যায়। সেগুলো কখনো মোছা হয়েছিল এমন নথি না পেয়ে সেগুলোকে ছবি হিসেবেই তালিকাভুক্ত করে। এটি সূচিতে ত্রুটি, অ্যাপল মুছে ফেলা ছবি রেখে দেয় তার প্রমাণ নয়।

বর্ণনাগুলো যেখানে আলাদা হয়ে যায়

অ্যাপলের বয়ানে এটি যন্ত্রের ভেতরের ডেটাবেজ-ত্রুটি। ৪০৪ মিডিয়াসহ কয়েকটি জায়গায় তুলে ধরা ব্যবহারকারীদের বর্ণনায় এমন কিছু আছে, যা ওই কাঠামোয় সহজে বসে না: মুছে বিক্রি করে দেওয়া একটি আইপ্যাডে ছবি দেখা যাওয়া, আর ব্যাকআপ থেকে সাজানো নতুন ফোনে ছবি ভেসে ওঠা।

দ্বিতীয় ঘটনাটি অ্যাপলের ব্যাখ্যাতেই আসে—নষ্ট এন্ট্রি ফাইল ট্রান্সফার বা আইক্লাউড ব্যাকআপ রিস্টোরের মধ্য দিয়ে অন্য যন্ত্রে যেতে পারে, সঙ্গে অনাথ ফাইলটিও। প্রথমটি প্রকাশ্যে কখনো পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি। মুছে ফেলা কোনো যন্ত্রে আগের মালিকের ছবি ভেসে উঠতে পারলে তা ডেটাবেজ নয়, মোছার প্রক্রিয়ার দিকেই ইঙ্গিত করে—আর অ্যাপল সরাসরি সে প্রসঙ্গে কিছু বলেনি।

সবচেয়ে ন্যায্য পাঠ হলো, ত্রুটিটির ব্যাখ্যা মিলেছে আর বিক্রি করা যন্ত্রের বর্ণনাগুলো ভুল প্রমাণিত হয়নি। সেগুলো ছিল অল্প, আর কোনো কৌশল দেখানো যায়নি—তবে কোনো কৌশল বাতিলও করা হয়নি।

এ থেকে যা করণীয়

  1. ফাইল মোছা মানে ফোন মুছে ফেলা নয়। বিক্রি বা হস্তান্তরের আগে ব্যবহার করুন সেটিংস → জেনারেল → ট্রান্সফার অর রিসেট আইফোন → ইরেজ অল কনটেন্ট অ্যান্ড সেটিংস। এটি পুরো স্টোরেজের এনক্রিপশন চাবি বাতিল করে, ফলে অনাথ ফাইল থেকে গেলেও আর পড়া যায় না। অ্যান্ড্রয়েডে সমতুল্য হলো এনক্রিপ্টেড যন্ত্রে ফ্যাক্টরি রিসেট—যা আধুনিক সব হ্যান্ডসেটই।
  2. ক্লাউড আলাদা করে দেখুন। আইক্লাউড ফটোজে থাকা কপি—icloud.com/photos-এর নিজস্ব রিসেন্টলি ডিলিটেড অ্যালবামসহ—ছবিটি চলে গেছে ভাবার অনেক পরেও যন্ত্রে ফিরে আসতে পারে।
  3. ছবিটি নিয়ে সত্যিই ভাবনা থাকলে ৩০ দিনের অপেক্ষা না করে রিসেন্টলি ডিলিটেড নিজ হাতে খালি করুন।

সূত্র: ৯টু৫ম্যাককে দেওয়া অ্যাপলের বিবৃতি; আইওএস ১৭.৫.১ রিলিজ নোট; ম্যাকরিউমরস; টেকরাডার; ফোনঅ্যারেনা; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।

সূত্র: Apple (statement to 9to5Mac), 9to5Mac, MacRumors, TechRadar, PhoneArena, Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।