প্রযুক্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টে প্রথম আইইউটির ফারিয়া আহমেদ—আর জুনিয়র শিরোপা সিলেটের এক স্কুলশিক্ষার্থীর

লুনা শামসুদ্দোহা আইসিটি উইকে ঢাবির আইআইটি গার্লস কমিউনিটি ও বিডিওএসএনের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ফারিয়া আহমেদ প্রথম, এমআইএসটির নিশাত তাসনিম ও সাদিয়া জাহানের আগে। স্কুল পর্যায়ে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এস এম সাবিকুন মীম। পূর্ণ সেরা দশ, আর বাংলাদেশের কম্পিউটিংয়ে শুধু নারীদের প্রতিযোগিতা এখনো কেন জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টে প্রথম আইইউটির ফারিয়া আহমেদ—আর জুনিয়র শিরোপা সিলেটের এক স্কুলশিক্ষার্থীর

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত অল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টে প্রথম হয়েছেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ফারিয়া আহমেদ। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নিশাত তাসনিম ও সাদিয়া জাহান দ্বিতীয় ও তৃতীয়। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিজয়ী সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এস এম সাবিকুন মীম। সেরা তিনজন পেয়েছেন অর্থ পুরস্কার; বিজয়ী সবাই সনদ।

সেরা দশ

চতুর্থ থেকে দশম উম্মে হাবিবা (বুয়েট), আতিয়া মাইসা (ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি), তাওফিকা ভূঁইয়া (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), মাহরিন আফরোজ ও নাবিহা তাহসিন (দুজনই বুয়েট), লামিয়া রহমান খান (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ও মেহেরিন নিশা (নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি)—সেরা দশে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি, যা নিজেই প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিং বুয়েটের বাইরে কতটা ছড়িয়েছে তার লক্ষণ।

কারা করল, কেন

প্রতিযোগিতার আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি গার্লস কমিউনিটি ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন), লুনা শামসুদ্দোহা আইসিটি উইকের অংশ হিসেবে। ২০২১ সালে প্রয়াত লুনা শামসুদ্দোহা ১৯৯২ সালে দোহাটেক নিউ মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করেন, সরকারের ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা গড়েন আর বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়া প্রথম নারী; বিডিওএসএন প্রতিবছর প্রযুক্তিতে নারীদের এক সপ্তাহের আয়োজনে তাঁর স্মৃতি রাখে। ঢাবির রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল বলেন, নারীদের কোডিং দক্ষতা দেখানোর আর অন্য কোডারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জায়গা দিতেই এ আয়োজন; বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, এটি দেশের আইসিটি খাতে শামসুদ্দোহার কাজের সম্মান।

শুধু নারীদের প্রতিযোগিতা কেন

কারণ উন্মুক্তগুলো বাস্তবে উন্মুক্ত নয়। বাংলাদেশে কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের মোটামুটি এক-পঞ্চমাংশ নারী আর প্রতিযোগীদের অনেক ছোট ভগ্নাংশ; জাতীয় আইসিপিসি প্রাথমিকে নারী দল এতটাই বিরল যে তার ছবি তোলা হয়। অল-গার্লস ফরম্যাট কাজ করে প্রশিক্ষণ মাঠের মতো—একই সমস্যা, একই বিচারক, একই ঘড়ি, সেই ভিড় ছাড়া, যা প্রথম বর্ষের অনেক নারীকে বোঝায় এটি তাঁদের জন্য নয়। এর স্নাতকেরা এক-দুই বছর পর হাজির হন মিশ্র প্রতিযোগিতায়, আর সেটিই উদ্দেশ্য।

পরের ধাপ

বিডিওএসএন সারা বছর নারীদের জন্য প্রোগ্রামিং ক্যাম্প ও অনলাইন অনুশীলন চালায়, আর এ প্রতিযোগিতার সেরা প্রতিযোগীরা সাধারণত জাতীয় গার্লস প্রোগ্রামিং ক্যাম্পে ডাক পান। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য পথটি সহজ: কোডফোর্সেস বা টফে নিয়মিত সমস্যা সমাধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামিং ক্লাবে যোগ দেওয়া, আর পরের বছরের আয়োজনের জন্য বিডিওএসএনের ফেসবুক পেজে চোখ রাখা। প্রতিযোগিতায় যাঁরা এবার সেরা দশে আসেননি, তাঁদের জন্যও অভিজ্ঞতাটি মূল্যবান—প্রথম প্রতিযোগিতা প্রায় কারও ভালো যায় না, আর দ্বিতীয়টি সব সময় ভালো যায়।

পাইপলাইন আসলে যেখানে ফুটো

কম্পিউটিংয়ে আসা নারীর অভাব বাংলাদেশে নেই। সিএসই বিভাগে ভর্তি দুই দশক ধরে বেড়েছে, আর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তিতে নারীর অংশ এখন উল্লেখযোগ্য। ঝরে পড়া ঘটে পরে, আর শনাক্ত করা যায় এমন দুটি জায়গায়।

প্রথমটি প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিং নিজেই—বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিয়োগদাতাদের কাছে সামর্থ্যের সংকেত দেন এভাবেই, আর আইসিপিসির দলও গড়ে ওঠে এখান থেকেই। প্রশিক্ষণ হয় ল্যাবে দীর্ঘ সান্ধ্য অধিবেশনে আর নিজে নিজে জমে ওঠা অনানুষ্ঠানিক দলে—দুটিই প্রবলভাবে বেছে নেয় তাঁদের, যাঁরা রাত পর্যন্ত থাকতে পারেন আর যাঁরা আগে থেকেই কোড করা বন্ধুদের বৃত্তের ভেতরে। ঘরে একমাত্র নারী প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাধারণত আসা বন্ধ করে দেন, আর এরপর প্রতি সেমিস্টারে ব্যবধান বাড়তেই থাকে।

দ্বিতীয়টি প্রথম চাকরি। এখানে সফটওয়্যারের কাজ জমে আছে ঢাকার কয়েকটি এলাকায়, বিজ্ঞাপনের মতোই প্রায়ই প্রচার হয় পরিচিতির সূত্রে, আর পুরস্কৃত করে দীর্ঘ সময় অফিসে থাকাকে। কাগজে এগুলোর প্রতিটিই নিরপেক্ষ, আর ফলে নিরপেক্ষ নয়।

এ ধরনের প্রতিযোগিতা কী কাজে

এটি মান নামিয়ে দেওয়া নয়; সমস্যাগুলো প্রমিত আইসিপিসি ধাঁচের। এটি বদলায় ঘরটিকে। প্রতিযোগিতায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীর হাতে থাকে সিভিতে লেখার একটি ফল, প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার একটি কারণ, আর—আরও জরুরি—নাম ধরে চেনা বিশজন সহযাত্রী। আয়োজকদের ঘোষিত লক্ষ্য হলো এর প্রতিযোগীরা এক বছর পর মিশ্র প্রতিযোগিতায় হাজির হবেন, আর ২০২৫ সালে যাচাই করার মাপকাঠি সেটিই।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।