এবারের এইচএসসি ও সমমানের ফলে ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য—একজন পরীক্ষার্থীও পাস করেননি। অন্য প্রান্তে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানে সব পরীক্ষার্থীই পাস করেছেন।
দুটি সংখ্যাই তীব্রভাবে সরেছে, আর একই দিকে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ২০২৪ সালে ৬৫টি আর গতবার ২০২টি; এখন তা ২৯৩, ২০২৪ সালের চার গুণেরও বেশি। শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান গতবারের ৩৫৪ থেকে নেমে হয়েছে ১৩৯।
গড়ের চেয়ে প্রান্তগুলো কেন বেশি জরুরি
৫২ দশমিক ১২ শতাংশের জাতীয় পাসের হার এমন একটি চিত্র আঁকতে প্ররোচিত করে, যেখানে সাধারণ একটি কলেজে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী পাস করেছেন। বণ্টন বলে অন্য কথা: প্রতিষ্ঠানের বড় ও বাড়তে থাকা একটি দল, যেখানে ব্যবস্থাটি আদৌ কাজ করছে না; আর ছোট হতে থাকা একটি দল, যেখানে তা পুরোপুরি কাজ করছে।
এ দুটি একই সমস্যার ভিন্ন মাত্রা নয়। ৫০ শতাংশের কলেজে পাস করা শিক্ষার্থীও আছেন, না-করাও আছেন; আর তাঁদের মধ্যকার পার্থক্যটি অনুসন্ধানের মতো। শূন্য শতাংশের কলেজ—যেখানে একদল পরীক্ষার্থী আছেন আর একটিও পাস নেই—তার দুর্বলতর সংস্করণ নয়; এটি সংকেত যে কাঠামোগত কিছু ভেঙেছে: বাধ্যতামূলক একটি পত্রের শিক্ষক নেই, ভবনে ক্লাসই হয়নি, নিবন্ধন হয়েছে পাঠদান ছাড়াই।

শূন্য পাসের কলেজ সাধারণত কেমন
বোর্ড তালিকা বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করেনি, তাই এখানেই সতর্কতা দরকার। আগের বছরগুলো থেকে যা জানা, তা হলো শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান সাধারণত খুব ছোট—শত শত নয়, হাতেগোনা কয়েকজন পরীক্ষার্থী—সদ্য অধিভুক্ত আর গ্রামীণ।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে এটি জরুরি: ছয়জন পরীক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান সাধারণ হেরফেরেই শূন্য শতাংশে নামতে পারে, ছয় শ পরীক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান পারে না। তাই সংখ্যা বাড়ার একটি অংশ ধস নয়, পাটিগণিত; আর ২৯৩-কে ২৯৩টি বড় ব্যর্থ কলেজ হিসেবে কারও পড়া উচিত নয়।
তবে এতে ধারাটির ব্যাখ্যা হয় না। ছোট গ্রামীণ কলেজের সংখ্যা দুই বছরে চার গুণ হয়নি। জাতীয় পাসের হার কমার বিপরীতে ৬৫ থেকে ২৯৩-এ ওঠা সেই কড়া মূল্যায়নেরই প্রকাশ—ঠিক সেই বিন্দুতে, যেখানে প্রতিষ্ঠানের তা শুষে নেওয়ার সামর্থ্য সবচেয়ে কম।
যে সংখ্যাটি চাওয়ার মতো
একটি তথ্য প্রকাশ করলেই এটি ব্যাখ্যাযোগ্য হতো, আর তা বোর্ডের কাছে আগেই আছে: শূন্য পাসের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা।
২৯৩টির বিপুল অংশ যদি দশের কম পরীক্ষার্থীর কলেজ হয়, তবে এটি অধিভুক্তির মান নিয়ে খবর—এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আদৌ শিক্ষার্থী ভর্তি করা উচিত কি না তা নিয়ে। আর উল্লেখযোগ্য অংশে যদি পঞ্চাশ বা তার বেশি থাকে, তবে এটি এমন একদল শিক্ষার্থীর খবর, যাঁদের দুই বছর কিছুই পড়ানো হয়নি আর যাঁরা তা জানলেন আজ। দুটির জবাব সম্পূর্ণ আলাদা, আর প্রকাশিত সংখ্যাটি দুটিকে আলাদা করতে পারে না।
এমন একটি সংখ্যার পর সাধারণত যা হয়
আগের বছরগুলোয় শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বাড়লে জবাব এসেছে কারণ দর্শানোর নোটিশে, আর কিছু ক্ষেত্রে অধিভুক্তি বা শিক্ষকের বেতনের এমপিও প্রত্যাহারে।
এই জবাবের একটি স্পষ্ট যুক্তি আছে, আর একটি সত্যিকারের ঝুঁকিও। যে জায়গায় কলেজ একটিই, সেখানে ব্যর্থ কলেজটি বন্ধ করলে শিক্ষার্থীরা ভালো প্রতিষ্ঠানে যান না; আদৌ পড়ার সুযোগটিই সরে যায়। যেসব জেলায় নিকটতম বিকল্প এক ঘণ্টা দূরে, সেখানে স্বীকৃতি প্রত্যাহার আসলে ওই শিক্ষার্থীরা পড়া চালিয়ে যাবেন কি না তা নিয়েই সিদ্ধান্ত—আর তা প্রশাসনিক পরিণতি হিসেবে নয়, কথাটি স্পষ্ট করেই নেওয়া উচিত।




