বাংলাদেশ জনপ্রিয়

ছাত্রীরা পাসে এগিয়ে ৮.৫৬ পয়েন্টে, আর জিপিএ-৫-এ ছাত্ররা এগিয়ে ৬৪২-এ

দুটি পরিসংখ্যান দুই দিকে ইশারা করে, আর কৌতূহলোদ্দীপক অংশটি যেকোনো একটি সংখ্যা নয়—দুটির মধ্যকার ব্যবধান।

ছাত্রীরা পাসে এগিয়ে ৮.৫৬ পয়েন্টে, আর জিপিএ-৫-এ ছাত্ররা এগিয়ে ৬৪২-এ

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হারে ছাত্রীরা ছাত্রদের ছাড়িয়ে গেছেন, আর সর্বোচ্চ গ্রেডে বেশি পেয়েছেন ছাত্ররা।

৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন—হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন, হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ছাত্রীরা এগিয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশীয় পয়েন্টে।

জিপিএ-৫-এ ক্রমটি উল্টে যায়: ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩, ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১—ছাত্ররা এগিয়ে ৬৪২-এ।

দুটি পরিসংখ্যান, একটি দল

এ দুটি পরস্পরবিরোধী নয়, আর এগুলোকে প্রতিযোগিতা হিসেবে পড়লে এরা যা বর্ণনা করে তা হাতছাড়া হয়। পাসের হার মাপে কতজন নিচু একটি সীমা পেরোলেন। সর্বোচ্চ গ্রেডের সংখ্যা মাপে কতজন উঁচু একটিতে পৌঁছালেন। একটি দল প্রথমটিতে ভালো আর দ্বিতীয়টিতে খারাপ করতে পারে, আর ঠিক তা-ই হয়েছে।

এটিও লক্ষ করুন যে ছাত্রীরাই বড় দল—৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ বনাম ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯—অর্থাৎ বড় জনগোষ্ঠী থেকে তাঁরা কম জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পরীক্ষার্থীর অনুপাতে প্রকাশ করলে শীর্ষে ছাত্রদের সুবিধা কাঁচা ৬৪২ যা বোঝায় তার চেয়ে চওড়া।

৮.৫৬ পয়েন্ট, আর ৬৪২
ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬.৩১%, ছাত্রদের ৪৭.৭৫%। জিপিএ-৫ ছাত্রদের ২০,৩৬৩, ছাত্রীদের ১৯,৭২১—ব্যবধান ৬৪২। গ্রাফিক: টেক বিডি।

এই চেহারা সাধারণত যা নির্দেশ করে

এ ধরনের ছক—একটি দল পাসের রেখায় চওড়া, অন্যটি শীর্ষে ঘন—সাধারণত সামর্থ্যের পার্থক্য নয়, কারা পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছান তার পার্থক্যই প্রকাশ করে।

এই স্তরে ছাত্রীদের ভর্তি দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, আর তাতে সাহায্য করেছে উপবৃত্তির কর্মসূচি—যেগুলো স্পষ্টভাবেই মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখতে বানানো। এর মানে ছাত্রীদের দলে এখন এমন অনেকে আছেন, যাঁরা এক প্রজন্ম আগে পরীক্ষায় বসতেনই না। যে দলের অংশগ্রহণ চওড়া, তার পাসের হার শক্ত হতে পারে আর একেবারে শীর্ষে ঘনত্ব পাতলা—কারণ তা বণ্টনের আরও নিচ পর্যন্ত পৌঁছায়।

ছাত্রদের দলের ধর্ম উল্টো। এইচএসসির আগে ছাত্রদের ঝরে পড়া বেশি, বিশেষত যেখানে পরিবারের আয় দরকার; তাই যাঁরা বসেন তাঁরা বেশি ছাঁকা একটি দল—আর প্রবেশে বেশি ছাঁকনি মানে বেরোনোর শীর্ষে বেশি ঘনত্ব।

বোর্ড পর্যায়ের অঙ্কও একই কথা বলে

একই চেহারা স্থানীয়ভাবেও দেখা যায়। চট্টগ্রাম বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ আর ছাত্রীদের ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কুমিল্লায় ৫৫ হাজার ৪৩৪ ছাত্রীর মধ্যে পাস ২৮ হাজার ৪১৫ জন, আর ৩৬ হাজার ৭২৮ ছাত্রের মধ্যে ১৫ হাজার ৮৫৭ জন—অনেক বড় ছাত্রীদল, পাসের হারও বেশি।

এর কোনোটিই এই শিরোনামকে সমর্থন করে না যে এক লিঙ্গ অন্যটিকে ছাড়িয়ে গেছে। আজ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ছাত্রীরা বেশি অংশ নিচ্ছেন আর বেশিবার সীমা পেরোচ্ছেন; আর ছাত্ররা পরীক্ষায় আসছেন ছোট, বেশি বাছাই হওয়া একটি দল হিসেবে। এগুলো সুযোগ নিয়ে তথ্য, সামর্থ্য নিয়ে নয়।

যে সংখ্যাটি বিষয়টি মিটিয়ে দিত

একটি পরিসংখ্যান এটিকে অনুমান থেকে প্রমাণে বদলে দিত, আর বোর্ড তা প্রকাশ করে না: লিঙ্গভেদে নিবন্ধন-থেকে-পরীক্ষায়-বসার অনুপাত। অর্থাৎ দুই বছর আগে যাঁরা এইচএসসিতে নিবন্ধন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কোন দলের কত অংশ আসলে পত্রগুলোয় বসলেন।

পরীক্ষার আগে ছাত্রদের ঝরে পড়ার হার বেশি হলে ওপরের ছাঁকনির ব্যাখ্যাটি নিশ্চিত হয়, আর জিপিএ-৫-এর ব্যবধান মূলত কারা টিকে রইলেন তারই ফল। আর দুই দল কাছাকাছি অনুপাতে পরীক্ষায় পৌঁছালে শীর্ষের পার্থক্যটি তৈরি করছে অন্য কিছু—আর সেটি যথাযথভাবে অনুসন্ধানের মতো।

ওই সংখ্যাটি ছাড়া প্রতিটি ফলের দিনে প্রকাশিত লিঙ্গ-তুলনা আসলে ভিন্নভাবে গড়ে ওঠা দুটি দলের তুলনা—যা জানানো হয় যেন একই মানুষের ওপর একই পরীক্ষা।

সূত্র: টিবিএস, প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।