প্রযুক্তি

শেষ হলো ইনফো-সরকার ৩: ২,৬০০ ইউনিয়নে ফাইবার, ১ লাখ ৯ হাজার সরকারি দপ্তর অনলাইনে, আর "১০ কোটি দ্রুতগতির ব্যবহারকারী" দাবির যাচাই

ইউনিয়ন পরিষদে অপটিক্যাল ফাইবার পৌঁছানো পাঁচ বছরের বাংলাদেশ-চীন প্রকল্প শেষ হলো ২২ নভেম্বর। এটি কী গড়ল, গাইবান্ধার একটি আইএসপি এর কারণেই কেন সম্ভব, আর শিরোনামের সংখ্যাটি আসলে কী গোনে।

শেষ হলো ইনফো-সরকার ৩: ২,৬০০ ইউনিয়নে ফাইবার, ১ লাখ ৯ হাজার সরকারি দপ্তর অনলাইনে, আর "১০ কোটি দ্রুতগতির ব্যবহারকারী" দাবির যাচাই

জাতীয় আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়, ইনফো-সরকার ৩, ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে সমাপনী অনুষ্ঠান করল। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২,৬০০ ইউনিয়ন পরিষদে অপটিক্যাল ফাইবার টেনেছে আর ১ লাখ ৯ হাজার ২৪৪ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ব্রডব্যান্ডে যুক্ত করেছে। প্রধান অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বললেন, ফলে "দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ এখন দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করছে"।

যা গড়ল

  • ইউনিয়ন পর্যন্ত ফাইবার। প্রকল্পের আগে জাতীয় ফাইবার মেরুদণ্ড থামত উপজেলায়; ইনফো-সরকার ৩ তা নিয়ে গেল স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়নে—দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নের ২,৬০০টিতে।
  • সরকারি দপ্তর অনলাইনে। স্কুল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভূমি অফিস, থানা—মোট ১ লাখ ৯ হাজার প্রতিষ্ঠান পেল ব্রডব্যান্ড সংযোগ।
  • ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেবার এক-ঠিকানা কাউন্টার চালানো উদ্যোক্তারা চার বছর বিনা মূল্যে ৫ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ পেলেন—যার জোরে গ্রামের মানুষ জেলা শহরে না গিয়ে পাসপোর্ট, জন্মসনদ ও টিআইএনের আবেদন করতে পারলেন।

ফাইবারটি এখন চালায় লাইসেন্সধারী ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক অপারেটররা—সে কারণেই গাইবান্ধার বাবা-ছেলে ব্যান্ডউইথ কিনে সফল টেলিকম শুরু করতে পারলেন, আর মধুপুরের ফ্রিল্যান্সাররা অবশেষে সংযোগ পেলেন: প্রকল্প রাস্তা বানিয়েছে, বাস চালায় বেসরকারি আইএসপি।

ওই ১০ কোটি নিয়ে

মন্ত্রীর সংখ্যাটিকে আকাঙ্ক্ষা হিসেবে পড়াই ভালো। বিটিআরসির নিজের হিসাবে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সাড়ে ১২ কোটি, কিন্তু তার প্রায় ১১ কোটি মোবাইল ডেটা—অনেকটাই টুজি বা থ্রিজি—আর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ফিক্সড ব্রডব্যান্ড। "দ্রুতগতি" নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাপা কোনো শ্রেণি নয়, আর ওকলার স্পিড টেস্টে বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেট অঞ্চলের ধীরতমগুলোর মধ্যে। প্রকল্পটি যাচাইযোগ্যভাবে যা করেছে: গ্রামীণ জনসংখ্যার বেশির ভাগের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে ফাইবার আনা। তাকে ১০ কোটি দ্রুত সংযোগে বদলানো আইএসপি, অপারেটর আর পরের প্রকল্পের কাজ।

এরপর কী

সমাপনীতে সভাপতি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক এটিকে "গ্রাম হবে শহর" প্রতিশ্রুতির আওতায় তুলে ধরেন; চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, আইসিটি জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান মো. মুশফিকুর রহমানও বক্তব্য দেন। বাকি ইউনিয়ন, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্যতা, আর শেষ মাইলের ব্যান্ডউইথের দাম—মাটির ফাইবার আর ঘরের ইন্টারনেটের ফারাক এখনো সেখানেই।

ফাইবার পাতা আর ফাইবার জ্বালানো এক নয়

এ ধরনের প্রকল্প হিসাব দেয় কত কিলোমিটার তার আর কতগুলো ইউনিয়ন যুক্ত হলো; দুটিই সত্য হতে পারে, অথচ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে সামান্যই। মাটির তার আর ঘরের ইন্টারনেটের মাঝখানে আছে আরও তিনটি ধাপ, যার কোনোটির দায়িত্বই এই প্রকল্পের ছিল না।

ফাইবারটি জ্বালাতে হয়—দুই প্রান্তে সক্রিয় যন্ত্র বসাতে হয়, যার মালিক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী কেউ থাকতে হয়। কাউকে এতে ক্যাপাসিটি বিক্রি করতে হয় এমন দামে, যা গ্রামের আইএসপি আবার বিক্রি করতে পারে। আর ইউনিয়ন পর্যায়ের যন্ত্রের দরকার নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, যা দেশের বড় অংশেই নেই।

সে কারণেই কাভারেজের মানচিত্র আর বাস্তব অভিজ্ঞতা এত তীব্রভাবে আলাদা হয়; আর সে কারণেই কাগজে ফাইবার পৌঁছে যাওয়া গ্রামেও মোটরসাইকেল হাতে বাবা-ছেলেই একমাত্র ব্রডব্যান্ড সরবরাহকারী থেকে যেতে পারেন।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।