২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুগল জানায়, জিমেইল আর ছয় অঙ্কের এসএমএস যাচাই কোড পাঠাবে না; বদলে আসবে ফোন দিয়ে স্ক্যান করার কিউআর কোড, সঙ্গে পাসকি ও অথেনটিকেটর অ্যাপ। প্রয়োগ হবে ধাপে ধাপে, কয়েক মাস ধরে।
প্রতিবেদনগুলো পরিষ্কার দুটি ব্যাখ্যায় ভাগ হয়ে গেল, আর দুটিই সত্যি—তবে সেগুলো এক ব্যাখ্যা নয়, আর গুগল যেটিতে জোর দিয়েছে সেটিই পেয়েছে সবচেয়ে কম মনোযোগ।
নিরাপত্তার যুক্তি, যা সবাই জানিয়েছে
দ্বিতীয় স্তর হিসেবে এসএমএস দুর্বল, আর বহু বছর ধরেই:
- সিম সোয়াপিং। আক্রমণকারী মোবাইল অপারেটরকে রাজি বা ঘুষ দিয়ে আপনার নম্বর তাঁর সিমে নিয়ে যান। এরপর প্রতিটি কোড পৌঁছায় তাঁর ফোনে। দুর্বল জায়গাটি দোকানের কাউন্টারে বসা একজন মানুষ, যা যত এনক্রিপশনই হোক ঠিক করে না।
- আড়ি পাতা। এসএমএস যায় এসএস৭ সিগন্যালিং নেটওয়ার্ক দিয়ে, যা বানানো হয়েছিল এমন সময়ে যখন এতে কেবল আস্থাভাজন জাতীয় অপারেটররাই ছিল। এতে অর্থপূর্ণ কোনো পরিচয় যাচাই নেই।
- ফিশিং। ছয় অঙ্কের কোড কাজে লাগে কারণ আপনি তা পড়ে শোনাতে পারেন—অর্থাৎ আপনাকে পড়ে শোনাতে রাজিও করানো যায়। সাপোর্ট থেকে ফোন করেছেন দাবি করা বিশ্বাসযোগ্য একজন কোডটি স্বেচ্ছায়ই পেয়ে যান।
গুগল আসলে যে কারণ সামনে এনেছে
গুগলের নিজের ভাষা ছিল "লাগামছাড়া, বিশ্বজোড়া এসএমএস অপব্যবহার"। এটি মূলত আপনার অ্যাকাউন্ট চুরি যাওয়া নিয়ে নয়। এটি গুগলের বিরুদ্ধেই চালানো এক প্রতারণা নিয়ে।
এসএমএস পাঠাতে টাকা লাগে, যা দেয় অনুরোধকারী প্রতিষ্ঠান। অপারেটর যেখানে ওই আয়ের ভাগ দেয় তাঁদের, যাঁরা ট্রাফিক আনেন, সেখানে ট্রাফিক বানানোর প্রণোদনা তৈরি হয়: বিপুলসংখ্যক ভুয়া সাইন-আপ চেষ্টা তৈরি করা, যার প্রতিটি প্রতারকের নিয়ন্ত্রণে থাকা নম্বরে একটি যাচাই এসএমএস পাঠায়, আর টার্মিনেশন ফির ভাগ নেওয়া। শিল্পে একে বলা হয় কৃত্রিমভাবে ফোলানো ট্রাফিক, বা এসএমএস টোল ফ্রড—আর বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি বছর এতে বিপুল খরচ হয়।
কিউআর কোড দেখাতে কিছুই লাগে না। এসএমএস সরালে প্রতারণা আর বিলটি—দুটিই একসঙ্গে সরে যায়।
দুই কারণই একই দিকে ইশারা করে, তাই করপোরেট সিদ্ধান্ত হিসেবে এটি জটিল নয়: সস্তা পথটিই নিরাপদ পথও। তবু কোন যুক্তিটি প্রতিষ্ঠান দিল তা লক্ষ করা দরকার, কারণ তাড়াহুড়োটির ব্যাখ্যা ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার চেয়ে ওই যুক্তিই ভালো দেয়। এসএমএস দুর্বল—তা প্ল্যাটফর্মগুলো এক দশক ধরেই জানত, এত দ্রুত না নড়েই।
বদলে যা আসছে, আর সৎ ক্রমটি
বিকল্পগুলো সমান নয়, যদিও প্রায়ই সমান হিসেবেই হাজির করা হয়।
- পাসকি সবচেয়ে শক্তিশালী। গোপন চাবিটি আপনার যন্ত্র ছেড়ে কোথাও যায় না আর সাইটের আসল ডোমেইনের সঙ্গে বাঁধা থাকে, ফলে কোনো ফিশিং পাতা তা ব্যবহার করতে পারে না। তালিকার একমাত্র এটিই ফিশিংকে সরাসরি হারায়।
- অথেনটিকেটর অ্যাপ নেটওয়ার্ক ছাড়াই যন্ত্রে কোড বানায়, ফলে সিম সোয়াপিং আর আড়ি পাতা বাদ পড়ে। কোডটি তবু ফিশ করা যায়।
- কিউআর কোড পদ্ধতি এসএমএস নেটওয়ার্ককেই সরিয়ে দেয় আর খুদে বার্তার চেয়ে স্পষ্টতই উন্নত। তবে এটি পাসকির সমান নয়।
যে জায়গাটিতে গোলমাল হবে
এসএমএস থেকে সরার প্রতিটি পদক্ষেপেরই একই দুর্বলতা: ফিরে আসার পথ। পাসকি বা অথেনটিকেটর রাখা ফোনটি হারালে আপনার ভেতরে ঢোকার একটি উপায় লাগবে—আর সেই উপায় সাধারণত তার চেয়ে দুর্বল, যাকে সে পাশ কাটাচ্ছে।
তাই কাজের পরামর্শটি একঘেয়ে আর গুরুত্বপূর্ণ। যেটিতেই যান, একটি দ্বিতীয় পদ্ধতি চালু রাখুন আর ব্যাকআপ কোডগুলো ফোনের বাইরে কোথাও রাখুন—ছাপিয়ে, কিংবা অন্য যন্ত্র থেকে পৌঁছানো যায় এমন পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে। মানুষ যেসব অ্যাকাউন্ট চিরতরে হারান, সেগুলো প্রায় কখনোই হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট নয়।
বদলটি বাংলাদেশে কোথায় ভালো, কোথায় খারাপ
এসএমএস কোড থেকে সরে আসার যুক্তিটি এখানে পশ্চিমের চেয়ে জোরালো, আর একই সঙ্গে বাস্তবায়নের ঝুঁকিটিও বেশি।
জোরালো, কারণ এসএমএস কোড চেয়ে নিয়ে অ্যাকাউন্ট দখলের প্রতারণা এখানে পরিচিত—অপারেটর বা ব্যাংকের কর্মী পরিচয়ে ফোন করে কোড চেয়ে নেওয়া সবচেয়ে বেশি দেখা ধরনগুলোর একটি। যে কোড মানুষকে পড়ে শোনানো যায়, সেটি মানুষকে ঠকিয়ে আদায়ও করা যায়; স্ক্রিনে দেখানো কিউআর কোড ফোনের ওপাশে বসা কারও কাজে লাগে না।
ঝুঁকিটি যন্ত্রে। কিউআর পদ্ধতিতে দুটি জিনিস একসঙ্গে দরকার—একটি কাজ করা ক্যামেরা আর একটি পরিষ্কার পর্দা। পুরোনো বা ফাটা পর্দার ফোনে, কম আলোয়, বা যে ফোনের ক্যামেরা নষ্ট, সেখানে এই ধাপটি আটকে যায়। যাঁদের একটিই ফোন আর সেটিই পুরোনো, তাঁদের জন্য আগে থেকে একটি বিকল্প রাখা জরুরি: রিকভারি ইমেইল হালনাগাদ রাখা, আর ব্যাকআপ কোডগুলো ছাপিয়ে বা লিখে কাগজে রেখে দেওয়া।
সূত্র: গুগলের ঘোষণা; অ্যান্ড্রয়েড অথরিটি; সাইবারইনসাইডার; গিগাজিন; মেকটেকইজিয়ার; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।




