প্রযুক্তি

জিমেইলের নতুন সামারি কার্ড শিপিংয়ের ই-মেইলকে করে ট্র্যাকিং বার আর ফ্লাইটের ই-মেইলকে বোর্ডিং পাস—ইনবক্সে যোগ হয় ‘হ্যাপেনিং সুন’ তাক

কেনাকাটা ও ভ্রমণের ই-মেইলের ওপরে জিমেইল বছরের পর বছর যে কার্ড দেখিয়েছে তা অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে নতুন করে গড়া হচ্ছে: পণ্যের ছবি, ডেলিভারির প্রগ্রেস বার ও ট্র্যাক প্যাকেজ বোতামসহ কেনাকাটার কার্ড; তারিখ, স্থান, টিকিট ও পথনির্দেশসহ ইভেন্ট কার্ড; বকেয়া অঙ্ক ও রিমাইন্ডারসহ বিলের কার্ড; ফ্লাইটের সময় ও চেক-ইনসহ ভ্রমণ কার্ড। ‘হ্যাপেনিং সুন’ বিভাগ ইনবক্সের ওপরে আগামী কয়েক দিনের ঘটনা জড়ো করে। আগে কেনাকাটা; বাকিগুলো আসছে মাসে।

জিমেইলের নতুন সামারি কার্ড শিপিংয়ের ই-মেইলকে করে ট্র্যাকিং বার আর ফ্লাইটের ই-মেইলকে বোর্ডিং পাস—ইনবক্সে যোগ হয় ‘হ্যাপেনিং সুন’ তাক

বছরের পর বছর জিমেইল নির্দিষ্ট ই-মেইলের ওপরে ছোট একটি বাক্স এঁকেছে—অর্ডারের নিশ্চিতকরণ, ফ্লাইটের বুকিং—কাজের তথ্য টেনে বের করে যাতে বার্তা পড়তে না হয়। গুগল এখন অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপে সেই সামারি কার্ড নতুন করে গড়ছে, আর পুনর্নকশা সেগুলোকে সারসংক্ষেপ থেকে করে নিয়ন্ত্রণ প্যানেল।

চার রকমের কার্ড

কেনাকাটা আসে আগে। কার্ডে যা কিনেছেন তার ছবি, ডেলিভারির প্রগ্রেস বার, কুরিয়ারের লাইভ অবস্থা খোলা ট্র্যাক প্যাকেজ বোতাম, আর বিক্রেতার সাইটে যেতে ভিউ অর্ডার। এ মাসের শেষে আসে ইভেন্ট—নাম, তারিখ, স্থান, গুগল ক্যালেন্ডারে যোগের লিংক, আসন নম্বর, টিকিট, পথনির্দেশ ও আমন্ত্রণের বোতাম; বিল, ক্রেডিট কার্ডের স্টেটমেন্টসহ, বকেয়া অঙ্ক, ন্যূনতম পরিশোধ ও লভ্য ক্রেডিট দেখিয়ে, গুগল টাস্কে রিমাইন্ডার বসানোর বোতামসহ; আর ভ্রমণ, ফ্লাইটের সময়, বিমানবন্দর, কনফার্মেশন নম্বর ও চেক-ইন বোতামের গ্রাফিকসহ, আর হোটেল বুকিংয়ে চেক-ইন ও চেক-আউটের সময়। প্রতিটি কার্ডের সবচেয়ে জরুরি তথ্য বড় হরফে; নতুন ই-মেইল এলে কার্ড নিজেই হালনাগাদ হয়, তাই পাঠানো-তারপর-দেরি হওয়া অর্ডার প্রথমটির বদলে সর্বশেষ অবস্থা দেখায়।

‘হ্যাপেনিং সুন’

ইনবক্সের ওপরে নতুন একটি বিভাগ আগামী কয়েক দিনের কার্ড জড়ো করে—বৃহস্পতিবারের ফ্লাইট, শনিবারের কনসার্ট, সোমবারে বকেয়া বিল—যাতে না খুঁজে পাওয়া যায়। জিমেইল ই-মেইল থেকে এই তারিখগুলো ইতিমধ্যে জানে; স্রেফ যেখানে আগে তাকান সেখানে দেখাচ্ছে।

যেভাবে কাজ করে, আর কী পড়ে

কার্ড গড়া হয় প্রেরকেরা ই-মেইলে যে কাঠামোবদ্ধ তথ্য দেন তা থেকে (schema.org মার্কআপ, যা গুগল ২০১৩ থেকে খুচরা বিক্রেতা ও এয়ারলাইনকে যোগ করতে বলেছে) আর, তা না থাকলে, বার্তাটির জিমেইলের নিজের পার্সিং থেকে। সেই পার্সিং নিয়েই স্পষ্ট থাকা দরকার: এটি চলে গুগলের সার্ভারে, আপনার মেইলের বিষয়বস্তুর ওপর, যেমন জিমেইলের ট্যাব ও স্প্যাম ফিল্টার বরাবর চলেছে। এটি জিমেইলে জেমিনি এআই সুবিধা নয়, যা আলাদা, অর্থের, অপ্ট-ইন পণ্য; সামারি কার্ড সবার জন্য চালু আর সেটিংস → স্মার্ট ফিচারসে বন্ধ করা যায়।

বাংলাদেশে

কার্ড আসবে কি না নির্ভর করে প্রেরকের ওপর। দারাজ, পিকাবু, বিমান ও ইউএস-বাংলা আর ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড স্টেটমেন্ট কার্ড তৈরি করবে কেবল তাদের ই-মেইলে মার্কআপ থাকলে বা গুগলের ছাঁচে মিললে—দারাজেরটা মেলে; বেশির ভাগ স্থানীয় বিক্রেতারটা নয়, আর এসএমএসে নিশ্চিত করা পাঠাও বা রেডএক্সের মতো কুরিয়ার কিছুই তৈরি করে না। সুবিধাটি কাজের আপনার কতটা কেনাকাটা ই-মেইলে আসে তার অনুপাতে, যা এখানকার বেশির ভাগের জন্য আন্তর্জাতিক অংশ: অ্যামাজন, আলিএক্সপ্রেস, এয়ারলাইন, হোটেল।

আপনার দারাজের মেইলে কার্ড আসবে না কেন

মানুষ যেভাবে পড়ে, জিমেইল এসব ই-মেইল সেভাবে পড়ছে না। কার্ডগুলো গড়া হয় কাঠামোবদ্ধ মার্কআপ থেকে, যা প্রেরক বার্তার ভেতরে বসান—schema.org তথ্যের একটি খণ্ড, মেইল পড়ার সময় যা অদৃশ্য, আর যা যন্ত্র-পাঠ্য ভাষায় বলে: এটি একটি অর্ডার, এই ট্র্যাকিং নম্বর, এই ডেলিভারির সময়।

অ্যামাজন, বেশির ভাগ এয়ারলাইন আর বড় আন্তর্জাতিক হোটেল চেইন এটি পাঠায়, কারণ গুগল নির্দেশিকাটি প্রকাশ করেছে আর তা সমর্থন করতে তাদের লাগে প্রকৌশলের একটি দিন। বাংলাদেশি প্রেরকদের প্রায় কেউই করে না: দারাজ নয়, বিকাশ নয়, দেশি এয়ারলাইনগুলো নয়, সেবা সংস্থার বিল নয়। ওই খণ্ডটি না থাকলে জিমেইলের তুলে নেওয়ার কিছুই থাকে না, তাই ই-মেইল ই-মেইলই থেকে যায়।

যার মানে এখানকার ডেভেলপারের জন্য ব্যবহারিক উত্তরটি সুখকরভাবে ছোট। আপনার লেনদেনের টেমপ্লেটে schema.org-এর Order বা FlightReservation মার্কআপ যোগ করা এক বিকেলের কাজ—আর তা হলো আপনার অর্ডার নিশ্চিতকরণ তালিকায় পড়ে থাকা আর আপনার ব্র্যান্ড ক্রেতার ইনবক্সের ওপরে ট্র্যাকিং বার হয়ে আসার মধ্যের পার্থক্য।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, নাইনটুফাইভগুগল, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।