২০১৪ সালে পাঁচ কর্মী নিয়ে বাংলাদেশে বিক্রি শুরু করে দারাজ। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে তারা অষ্টম বর্ষপূর্তি করল প্রায় ৬ হাজার কর্মী, প্ল্যাটফর্মে ৭০ লাখের বেশি ক্রেতা ও ৪১ হাজার বিক্রেতা নিয়ে; সঙ্গে ৪ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর বর্ষপূর্তির প্রচারণা, ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়। গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বিয়ারকে মিকেলসন বলেন, দারাজ "বাংলাদেশের মানুষের কেনাকাটার অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে", আর সেলটি ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে মাইলফলকের আনন্দ ভাগ করতে।
যেখান থেকে এল
দারাজের জন্ম ২০১২ সালে পাকিস্তানে, জার্মান ইনকিউবেটর রকেট ইন্টারনেটের হাতে; বিস্তার বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে; ২০১৮ সালে কিনে নেয় আলিবাবা, যা আনে চীনা লজিস্টিকসের দক্ষতা, যাচাই করা ব্র্যান্ডের দারাজ মল আর ১১.১১ সেল—এখন দেশের সবচেয়ে বড় কেনাকাটার দিন। বাংলাদেশে চালান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদল হক, সঙ্গে প্রধান বিপণন কর্মকর্তা তাজদীন হাসান ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা খন্দকার তাসফিন আলম—সবাই সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।
যে কোম্পানি রমরমা পেরিয়ে টিকল
বেশি আকর্ষণীয় বর্ষপূর্তি সেটি, যা কেউ বলল না। ২০২১ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত ভেঙে পড়ে: আগাম টাকায় অর্ধেক দামে মোটরসাইকেল আর ফোন বেচা ইভ্যালি, ইঅরেঞ্জ, ধামাকাসহ ডজনখানেক প্রতিষ্ঠান ধসে পড়ে, গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা আটকে, মালিকেরা জেলে। দারাজ কখনো সেই খেলা খেলেনি। এটি মার্কেটপ্লেস: বিক্রেতা পণ্য তোলে, দারাজ পেমেন্ট ও ডেলিভারি সামলায়, কমিশন নেয়। দাম কখনো অলীক ছিল না, টাকা কখনো মাসের পর মাস আটকে থাকেনি। ২০২১ সালের ডিজিটাল কমার্স নীতিমালায় এসক্রো ও ডেলিভারির সময়সীমা এলে দারাজ আগেই সে নিয়মে ছিল। এর ৪১ হাজার বিক্রেতা সেই যুগের টিকে থাকা ছোট ব্যবসা।
ক্রেতাদের এখনো যা খেয়াল রাখতে হবে
- দারাজ মল বনাম বাকিরা। মলের বিক্রেতারা যাচাই করা ব্র্যান্ড, ১৪ দিনের রিটার্ন নীতিসহ; বাকি মার্কেটপ্লেস নানা মাত্রার সততার ব্যক্তি বিক্রেতা। শুধু দাম নয়, বিক্রেতার রেটিং আর রিভিউর সংখ্যা দেখুন।
- ক্যাশ অন ডেলিভারিই আপনার সুরক্ষা। অপরিচিত বিক্রেতার কিছু হলে ডেলিভারিতে টাকা দিন, আর অ্যাপ অনুমতি দিলে রাইডারের সামনে প্যাকেট খুলুন।
- বর্ষপূর্তি ও ১১.১১-এর "ছাড়" প্রায়ই ফুলিয়ে রাখা তালিকামূল্যের ওপর। ৬০ শতাংশ ছাড়ের ট্যাগ বিশ্বাস করার আগে দোকানের সঙ্গে মেলান।
- ওয়ারেন্টি। মলের বাইরের বিক্রেতার ইলেকট্রনিকসে বাংলাদেশের সরকারি ওয়ারেন্টি না-ও থাকতে পারে; অর্ডারের আগে জিজ্ঞাসা করুন।
আট বছরে দারাজের আসল অর্জন নিরস অথচ জরুরি: বাংলাদেশে অনলাইনে কিছু অর্ডার করাকে স্বাভাবিক কাজ বানিয়েছে, আর এখনো টিকে আছে।
আট বছরে আসলে যা প্রমাণ হলো
বর্ষপূর্তির সংখ্যাগুলোই এই মাইলফলকের সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় অংশ। দারাজ যা দেখিয়েছে তা হলো—বাংলাদেশে ই-কমার্সের কঠিন অংশটি কখনোই ওয়েবসাইট ছিল না।
কঠিন ছিল পোস্টকোড নয়, বর্ণনায় লেখা ঠিকানায় পণ্য পৌঁছে দেওয়া; ক্যাশ অন ডেলিভারি, তার ফেরত আর আটকে থাকা টাকা; এমন বিক্রেতাদের সামলানো যাঁদের বেশির ভাগ আগে কখনো কিছু কুরিয়ার করেননি; আর ছুঁয়ে দেখার আগেই টাকা দিতে ক্রেতাকে রাজি করানোর ধীর কাজটি। বেশি পুঁজি আর জোরালো বিপণন নিয়ে আসা প্রতিযোগীরা ঠিক এই নিরুজ্জ্বল সমস্যাগুলোতেই ব্যর্থ হয়েছে। এগুলো পেরিয়ে টিকে থাকাই অর্জন—আর সে কারণেই রমরমা শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি দাঁড়িয়ে ছিল।




