প্রযুক্তি

সাইবার বুলিংয়ের শিকার? প্রথম এক ঘণ্টায় কী করবেন, আর ঠিক কোথায় যাবেন

দুটি সত্যি ঘটনা—একটি ৯৯৯-এ ২৪ ঘণ্টায়, আরেকটি সাইবার ক্রাইম ইউনিটে তিন দিনে সমাধান—সঙ্গে যে নম্বর, পেজ ও প্রমাণের নিয়মে অভিযোগ কাজ করে।

সাইবার বুলিংয়ের শিকার? প্রথম এক ঘণ্টায় কী করবেন, আর ঠিক কোথায় যাবেন

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লুনা অচেনা একজনের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করেন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ কথা হয়, ছবি বিনিময় হয়, আর ব্যক্তিগত ছবি চাইলে তিনি না করেন। ছেলেটি হুমকি দেয়—ছবি এডিট করে "নোংরা ছবি" বানিয়ে ছেড়ে দেবে—তারপর টাকা চায়। তিনি তিনবার দেন। আর দিতে না পারলে ছেলেটি এডিট করা ছবি পোস্ট করে। তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন, প্রমাণ পাঠান, আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি সরে যায়, ছেলেটি গ্রেপ্তার হয়।

ঢাকার স্কুলশিক্ষক রাজু হোসেন অনলাইনে খুব একটা থাকেন না; সহকর্মীর ফোনে জানেন, তাঁর নামে অপপ্রচার চলছে—ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, হ্যাকার আত্মীয়দের কাছে টাকা চাইছে। তিনি পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগে যোগাযোগ করেন, তিন দিনে অ্যাকাউন্ট ফেরত পান।

দুটি নামই ছদ্মনাম; দুটি ঘটনাই সত্যি, আর দুটিই একই কথা বলে। বাংলাদেশে সাইবার বুলিং থামানো যায়—দ্রুত ও সঠিক ক্রমে কাজ করলে।

প্রথম এক ঘণ্টা

  1. উত্তর দেবেন না, টাকা দেবেন না, পাল্টা আক্রমণ করবেন না। টাকা পেলে ব্ল্যাকমেলার বাড়ে; তর্কে সে বেশি উপাদান পায়।
  2. ব্লক করার আগে প্রমাণ রাখুন। বার্তা, প্রোফাইল, প্রতিটি পোস্টের ইউআরএল ও প্রোফাইল আইডির স্ক্রিনশট নিন। আইনজীবীরা বলেন, থানার নথির জন্য প্রিন্ট করুন, আর কথোপকথন মুছবেন না—তদন্তকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্মের লগ ডেটা অক্ষত থাকা দরকার।
  3. বিশ্বাসের একজনকে বলুন। রামপুরা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কাছে আসা অভিযোগকারীর ৯৮ শতাংশ নারী, আর বেশির ভাগই পরিবারকে বলতে চান না। তবু কাউকে বলুন; একা বইবেন না।
  4. প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট ও ব্লক করুন। সম্মতিহীন ঘনিষ্ঠ ছবি ওই বিভাগে রিপোর্ট করলে ফেসবুক দ্রুত সরায়।

কোথায় যাবেন

  • ৯৯৯, জাতীয় জরুরি সেবা—হুমকি ও ঘনিষ্ঠ ছবির অপব্যবহারে; লুনার ক্ষেত্রে এক দিনে কাজ হয়েছে।
  • পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন: নারী ভুক্তভোগীদের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিট—০১৩২০-০০০৮৮৮ নম্বরে, cybersupport.women@police.gov.bd ঠিকানায় ও ফেসবুক পেজে; কাজ করেন নারী কর্মকর্তারা।
  • নিকটতম থানা—জিডি বা মামলায়; পুলিশ বলছে, ছবি পোস্ট ও হুমকির অভিযোগে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মামলা পর্যন্ত যান না।
  • ডিএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিট ঢাকায় ও সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টার সারা দেশে—হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট ও সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেলে।
  • জেলার সাইবার ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবীর মাধ্যমে—থানা মামলা না নিলে, বললেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হায়দার তানভীরুজ্জামান।

সবার ওপরে, প্রতিটি কর্মকর্তা ও আইনজীবীর কথা: মনে রাখুন, দোষ আপনার নয়। শান্ত থাকুন, প্রমাণ রাখুন, আর যান।

কোন আইন প্রযোজ্য, আর তা বদলাল কেন

এই ঘটনার সময় প্রযোজ্য আইন ছিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮, যার জায়গা ২০২৩ সালে নেয় সাইবার নিরাপত্তা আইন। ভুক্তভোগীর জন্য ব্যবহারিক কাঠামো মোটামুটি একই থেকেছে—পুলিশের সাইবার ইউনিট, অভিযোগের পথ আর প্রমাণের শর্ত বদলায়নি—তবে শাস্তি এবং বাক্‌স্বাধীনতাসংক্রান্ত কিছু ধারা নতুন করে লেখা হয়েছে।

কোন আইন বলবৎ, তা নির্বিশেষে দুটি কথা খাটে। থানায় সাধারণ ডায়েরিতে কোনো খরচ নেই, আর তাতে তারিখসহ একটি নথি তৈরি হয়—পরের প্রতিটি ধাপ যার ওপর দাঁড়ায়। আর প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে অ্যাকাউন্টটি ব্লক বা রিপোর্ট করার আগে; কারণ রিপোর্ট করলে প্রায়ই বিষয়বস্তু সরে যায়, সঙ্গে নিয়ে যায় আপনার প্রমাণও। আগে প্রোফাইলের ঠিকানা ও বার্তাগুলোর স্ক্রিনশট নিন, তারপর ব্যবস্থা নিন।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।