২০২২ সালের শেষের আগেই কলড্রপ কমবে—১২ মে বৃহস্পতিবার বললেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, কারণ অপারেটরদের হাতে এখন কাজ করার মতো ১৯০ মেগাহার্টজ বাড়তি তরঙ্গ। ঢাকার একটি হোটেলে অ্যালায়েন্স ফর অ্যাফোর্ডেবল ইন্টারনেটের আয়োজনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতিতে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন; সঙ্গে ছিলেন বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ ও এ৪এআইয়ের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সমন্বয়কারী আনজু মাংগল।
মন্ত্রীর যুক্তি
জব্বারের যুক্তি, কলড্রপ মূলত ধারণক্ষমতার সমস্যা: টাওয়ারপ্রতি বেশি ব্যবহারকারী, সেবা দেওয়ার তরঙ্গ কম। মার্চের নিলামে ২.৩ গিগাহার্টজে ১০০ ও ২.৬ গিগাহার্টজে ১২০ মেগাহার্টজ অপারেটরদের হাতে গেছে; সেটি বসানো হলে, তাঁর মতে, সেবার মান বাড়বে। মন্ত্রণালয়ের অন্য দাবিগুলোও তিনি তুলে ধরেন: প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড, দেশের ৯৮ শতাংশ এলাকায় ফোর-জি, আর দেশে ১৪টি ব্র্যান্ডের ফোন সংযোজন—যা চাহিদার ৭০ শতাংশ মেটাচ্ছে।
কল আসলে কেন কাটে
- ভিড়। একটি সেল একসঙ্গে নির্দিষ্টসংখ্যক কল বহন করতে পারে। দুপুরের মতিঝিল বা ঈদের গ্রামে তা ফুরিয়ে যায়। নতুন তরঙ্গ এখানে কাজে লাগে—তবে যেখানে অপারেটর তা টাওয়ারে যোগ করে, শুধু সেখানে।
- হ্যান্ডওভার ব্যর্থতা। চলন্ত ফোন এক টাওয়ার থেকে পরেরটিতে হস্তান্তর হয়; পরেরটি ভরা থাকলে বা ওভারল্যাপ খারাপ হলে কল মরে। সে কারণেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কল কাটে।
- ঘরের ভেতরের কভারেজ। নতুন ২.৩ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড দেয়াল ভেদ করে খারাপ। কংক্রিটের ভবনের ভেতরে ফোন দুর্বল ব্যান্ডে বা টুজিতে নেমে যেতে পারে, আর ফোর-জির ভয়েস (ভিওএলটিই) কথার মাঝখানে টুজি কলে বদলে যেতে পারে।
- বিদ্যুৎ। লোডশেডিংয়ে জেনারেটরে চলা টাওয়ার গ্রামীণ উপজেলায় কলড্রপের পরিচিত কারণ।
গ্রাহক আজ যা করতে পারেন
- অপারেটর সমর্থন করলে ফোনের সিম সেটিংসে ভিওএলটিই চালু করুন; কল ফোর-জিতে থাকে, দ্রুত সংযুক্ত হয়।
- শুধু বাসা বা অফিসে কল কাটলে অপারেটরকে কভারেজ পরীক্ষার অনুরোধ করুন; কাছের সেক্টর তারা টিউন করতে পারে।
- ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখুন; মডেম ফার্মওয়্যারে হ্যান্ডওভারের ত্রুটি সারে।
- নিয়মটি জানুন: বিটিআরসির নির্দেশনায় বারবার কলড্রপে অপারেটরকে টকটাইম ফেরত দিতে হয়। খুব কম মানুষ তা দাবি করেন, আর একই মাসে নিয়ন্ত্রক নিয়মটি কড়া করার কথা বলছিল।
ফেরতের নিয়ম, আর তার ছোট হরফ
ওই বছরের শেষে বিটিআরসির দেওয়া ক্ষতিপূরণের নির্দেশটি নির্দিষ্ট করে বোঝা দরকার, কারণ বেশির ভাগ মানুষ যা ভাবেন তার চেয়ে এটি সংকীর্ণ। ফেরত প্রযোজ্য দিনের প্রথম কলড্রপ থেকেই, তা মেলে টাকায় নয়—টকটাইমে, আর যোগ হয় পরের দিন; সঙ্গে সঙ্গে নয়, আর নগদে ব্যালান্সেও নয়।
এর একটি ব্যবহারিক পরিণতি আছে। যিনি প্রায় সব কথাই ইন্টারনেটে বলেন—২০২২ সাল নাগাদ তরুণ গ্রাহকদের বেশির ভাগই তা-ই—তাঁর কাছে ফেরত পাওয়া টকটাইম অকেজো। তাঁদের জন্য দুর্বল সেলের প্রতিকার কোনো ফেরত-প্রকল্প নয়, বরং নীরস উপায়টিই: ভবনের ঠিক কোথায় সিগন্যাল আছে তা খুঁজে বের করা, আর হ্যান্ডসেট ও অপারেটর সমর্থন করলে ওয়াই-ফাই কলিং ব্যবহার করা।
হালনাগাদ: ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বিটিআরসি দিনের প্রথম কলড্রপ থেকেই টকটাইম ফেরতের নির্দেশ দেয়; গ্রামীণফোন ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে তা দেওয়া শুরু করে।




