প্রযুক্তি

মাইক্রোসফট ছাড়ার সপ্তাহে বিল গেটস যে ২৫টি বই অর্ডার করেছিলেন—আর আবহাওয়া ও ভূতত্ত্বের যে তিনটি এখনো সুপারিশ করেন

২০০৮ সালের শরতে গেটস তাঁর ফাউন্ডেশনের দরকারি বিজ্ঞান নিজে শিখতে অফিসে ২৫টি পাঠ্যবইয়ের তালিকা ই-মেইল করেন। এ বছর ই-মেইলটি আবার পেয়ে যেগুলো টিকেছে তা লিখলেন: লুটজেনস ও টারবাকের দ্য অ্যাটমোস্ফিয়ার, মনরো, উইক্যান্ডার ও হ্যাজলেটের ফিজিক্যাল জিওলজি, জন রেন্টনের প্ল্যানেট আর্থ ও তাঁর বক্তৃতা সিরিজ—সঙ্গে ওয়েদার ফর ডামিস, যা তিনি বলছেন পড়তে কারও লজ্জা পাওয়া উচিত নয়। ব-দ্বীপে গড়া দেশের কেন ইঙ্গিতটি নেওয়া উচিত।

মাইক্রোসফট ছাড়ার সপ্তাহে বিল গেটস যে ২৫টি বই অর্ডার করেছিলেন—আর আবহাওয়া ও ভূতত্ত্বের যে তিনটি এখনো সুপারিশ করেন

২০০৮ সালের শরতে বিল গেটস মাইক্রোসফট চালানো থামিয়ে তাঁর ফাউন্ডেশনে পূর্ণকালীন কাজ শুরু করেন, যার কাজে—স্বাস্থ্য, শিক্ষা আর ক্রমবর্ধমানভাবে জলবায়ু—লাগত এমন বিজ্ঞানের ভিত্তি, যা তিনি কখনো পড়েননি। তিনি যা করেন তা-ই করলেন: অফিসে ই-মেইল পাঠালেন ২৫টি বই অর্ডারের তালিকা দিয়ে। এ মাসে, চৌদ্দ বছর পর, ই-মেইলটি আবার পেয়ে তিনি ব্লগ গেটসনোটসে লিখলেন আবহাওয়া ও ভূতত্ত্বের যেগুলো এখনো সুপারিশ করেন।

চারটি বই

ফ্রেডরিক লুটজেনস ও এডওয়ার্ড টারবাকের দ্য অ্যাটমোস্ফিয়ার, প্রথম প্রকাশ ১৯৭৯, এখন চতুর্দশ সংস্করণে, কলেজের পাঠ্যবই, কিন্তু গেটস বলছেন গ্রহের জলবায়ু কীভাবে কাজ করে বুঝতে চাওয়া যে কেউ পড়তে পারেন: বৃষ্টিপাত, বায়ুচাপ, ঝড়, দূষণ, সেই রঙিন চিত্রে ব্যাখ্যা যা পাঠ্যবইকে দামি ও কাজের করে। জেমস মনরো, রিড উইক্যান্ডার ও রিচার্ড হ্যাজলেটের ফিজিক্যাল জিওলজি একই কাজ করে প্লেট টেকটোনিকস, আগ্নেয়গিরি, হিমবাহ ও অতীত জলবায়ুর ভূতাত্ত্বিক নথিতে। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন রেন্টনের প্ল্যানেট আর্থ তালিকায় দুই কারণে: বইটি নিজে, আর লেখক, যাঁর ভিডিও বক্তৃতা কোর্স নেচার অব আর্থ: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু জিওলজি গেটস পরে দেখেন আর বর্ণনা করেন পাথরকে আকর্ষণীয় করা মানুষের কাজ হিসেবে। আর ওয়েদার ফর ডামিস, যা ২০০৮-এর অর্ডারে ছিল আর যা, তিনি লেখেন, ঠিক যা বলে তা-ই: এমন স্পষ্ট ভূমিকা, যা হাতে দেখা যেতে কোনো প্রাপ্তবয়স্কের লজ্জা পাওয়া উচিত নয়।

তাকের বাকিটা

একই পোস্টে উল্লেখ প্রকৃতিতে মানুষের হস্তক্ষেপ নিয়ে এলিজাবেথ কলবার্টের আন্ডার এ হোয়াইট স্কাই, ইউলা বিসের অন ইমিউনিটি, সিদ্ধার্থ মুখার্জির দ্য জিন ও তাঁর নতুন দ্য সং অব দ্য সেল, রোগ অভিযানের ইতিহাসে ন্যান্সি স্টেপানের এরাডিকেশন, আর, গেটসের বেলায় বরাবরের মতো, জ্বালানি লেখক ভাৎস্লাভ স্মিল।

এখানে কেন জরুরি

বাংলাদেশ পুরোপুরি এই তালিকার বিষয়ে গড়া দেশ। এটি নদীর পলির ব-দ্বীপ (ফিজিক্যাল জিওলজি), এর বছর ঠিক করে বর্ষা (দ্য অ্যাটমোস্ফিয়ার), আর এর ভবিষ্যৎ সমুদ্রপৃষ্ঠ ও ঘূর্ণিঝড়ের পথ (দুটিই)। তবু ভূবিজ্ঞান স্কুলে ভূগোলের একটি অধ্যায়ের বাইরে কমই পড়ানো হয়, আর জলবায়ু নিয়ে জনআলোচনা—এ দেশের সবচেয়ে জরুরি আলোচনা—চলে মূলত স্লোগানে। গেটসের নাম করা পাঠ্যবইগুলো পুরোনো, পুরোনো সংস্করণে সস্তা, আর রেন্টনের বক্তৃতার বেলায় ইউটিউবে ফ্রি। খুলনার যে শিক্ষার্থী এগুলো পড়ে শেষ করবেন, তিনি নিজের বাড়ির নিচের মাটি বুঝবেন তা রক্ষার পরিকল্পনা করা বেশির ভাগ কর্মকর্তার চেয়ে ভালো।

বদ্বীপে ভূতত্ত্ব কেন জাতীয় বিষয়

বেশির ভাগ দেশে ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞের আগ্রহ। বাংলাদেশে এটি সেই মাটি, যার ওপর পুরো অর্থনীতি দাঁড়িয়ে—আর তিনটি তথ্য তা নির্ধারণ করে।

ভূমিটিই নদীবাহিত নবীন পলি, তাই তা দেবে যায়—আর দেবে যাওয়া মাটি সমুদ্র বাড়ার মতোই ফল দেয়, একই সঙ্গে। ভূগর্ভস্থ পানি তোলা সেই দেবে যাওয়া আরও দ্রুত করে। আর দেশের বড় অংশে নলকূপের পানিতে যে আর্সেনিক, তা আদৌ দূষণ নয়; ওই পলিতেই তা প্রাকৃতিকভাবে আছে—সে কারণেই নলকূপ আসার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্যাটি দেখা দিয়েছিল।

এর কোনোটিই সহজাত বোধে আসে না, আর সবই আছে ঠিক এই তালিকার ধরনের বইয়ে। আবহাওয়া আর পাথর নিয়ে পড়ার তালিকা একটি বদ্বীপের জন্য শখের চেয়ে নাগরিক শিক্ষার কাছাকাছি।

সূত্র: গেটসনোটস, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।